বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ইরানের প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর তাণ্ডবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অভিযানের প্রথম দুই দিনেই ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একইসঙ্গে ইরানের উপকূলীয় জলসীমা ছেড়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির দাবি
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলো লক্ষ্য করে চালানো ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ৬৫০ মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। ওয়াশিংটন সাধারণত এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর গোপন রাখে, তবে ইরানের গোয়েন্দা তথ্য ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা এই হতাহতের সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সদরদপ্তরে আঘাত ও রণতরীর পলায়ন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একাধিকবার সফলভাবে আঘাত হেনেছে। সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় চালানো হামলায় অন্তত ১৬০ জন মার্কিন সদস্য হতাহত হন। এছাড়া ইরানি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন সাপোর্ট জাহাজ ‘এমএসটি কমব্যাট’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি করা হয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ নিয়ে। নায়েইনি জানান, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০-৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত রণতরীটি লক্ষ্য করে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলার মুখে টিকতে না পেরে রণতরীটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
অভিযানের প্রেক্ষাপট
ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতেই আইআরজিসি এই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক দাপট খর্ব করতে ইরান বদ্ধপরিকর বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।